বরিশাল-ঢাকা রুটে লঞ্চের প্রতিযোগীতা বন্ধ করতে হবে-জেলা প্রশাসক

জুলাই ২৯ ২০১৯, ১১:০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, বার্তা বরিশাল ॥ বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেছেন, সড়ক ও নৌপথে অসুস্থ প্রতিযোগীতা করতে পারবে না। এ থেকে বিরত থাকার জন্য পরিবহন ও নৌযান চালকদের পাশাপাশি মালিকদেরও আরো সচেতন হতে হবে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার
(২৯ জুলাই) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিশেষ সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি গত ১৮ জুলাই ভোররাতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী পারাবত-১১ লঞ্চের ধাক্কায় সুন্দরবন-১০ লঞ্চ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, যেহেতু নিরাপত্তার কথা ভেবেই মিয়ারচরের চ্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে। আর সেটি যদি সরু হয়, তবে সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিযোগীতার প্রয়োজন নেই। পারাবত-১১ লঞ্চ ধাক্কা দিয়ে সুন্দরবন-১০ এর যে ধরণের ক্ষতিসাধন করেছে তাতে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। তাই ওই লঞ্চের চালকের বিরুদ্ধে মালিকরা ব্যবস্থা নিবেন এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহবান করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, যার যার অবস্থান থেকে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। একে অপরের ঘারে দোষ না চাপিয়ে কোরবানির ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা যাতে নির্বিঘ্নে ও আরামদায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টার্মিনালে যাত্রী হয়রানি করা যাবে না এবং খেয়াল রাখতে হবে ভাড়া যেন না বাড়ে।

এসময় তিনি বাস মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন কোন বাস চালক একনাগারে ২৪ ঘন্টা গাড়ি না চালায়।

সভায় জানানো হয়, বরিশাল নদী বন্দরে লঞ্চের তুলনায় টার্মিনালের জায়গা সংকট রয়েছে। পল্টুন কম থাকার কারণে এ সমস্যার ফলে একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দরে নোঙর করতে পারবে না।

সভায় স্পেশাল সার্ভিসের সময় নদীপথে বালুবাহী বাল্কহেডসহ ঝুকিপূর্ণ নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা, লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করা, সরু চ্যানেলে (মিয়ারচর) পাশাপাশি দু’টি লঞ্চ চলাচল না করা, নদী তীরের সিগনাল বাতিসহ সাংকেতিক চিহ্ন ঠিক রাখা এবং নদীর মধ্যে কোনো লঞ্চ না থামানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অপরদিকে সড়ক পথের জন্য সভার উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলো হলো- ফিটনেসবিহীন মোটরযান সড়কে চালনা এবং এতে যাত্রী পরিবহন না করা, অনবিজ্ঞ ও লাইসেন্সবিহীন চালক-হেলপার দিয়ে মোটরযান চালনা থেকে বিরত থেকে ওভারলোডে
যাত্রী পরিবহন না করা, চালকদের সময়মতো বিশ্রাম নিতে দেওয়া, ভাড়া ঠিক রাখা, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে জেলা প্রশাসন,বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসন ভিন্ন ভিন্ন ও যৌথভাবে কার্যক্রম করা।

এছাড়া সভা সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নদী বন্দর, নথুল্লাবাদের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় ঈদের আগে ও পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হবে। এসব জায়গা ঘিরে নৌপুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, কোস্টগার্ড, র‌্যাব সদস্যদের পাশাপাশি স্কাউট, মেরিন ক্যাডেট, আনসার, কমিউনিটি পুলিশ ও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অপরদিকে দুর্ঘটনা বা অসুস্থজনিত কারণে যাত্রীদের উদ্ধার ও হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করবে।

এছাড়া নদী বন্দর ও বাস টার্মিনালে যাত্রীদের বসার জন্য অতিরিক্ত যাত্রী ছাউনি নির্মাণ ও বিশুদ্ধ পানি এবং মাইকিং এর ব্যবস্থা করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।