ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুত বরিশাল নৌ বন্দর

আগস্ট ০২ ২০১৯, ১১:৫৯

ঈদুল আজহা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পালন করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবেন রাজধানীর মানুষ। আবার প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটিয়ে চলে যাবেন রাজধানীতে। আর তাই প্রতিবছরের মতো এবারও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সড়ক, নৌ ও আকাশ পথে স্পেশাল সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের সব থেকে বেশি মানুষ নৌপথে যাতায়াত করায়, আগামী ৮ আগস্ট থেকে লঞ্চগুলো ঢাকার সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলমুখী স্পেশাল সার্ভিস দিতে শুরু করবে। যে সার্ভিস প্রয়োজনের তাগিদে আবার রাজধানীমুখী মানুষের জন্য ঈদের পর ২০ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

আর এ স্পেশাল সার্ভিসকে ঘিরে এরইমধ্যে দক্ষিণের নদী বন্দর ও লঞ্চঘাট কর্তৃপক্ষ আগাম প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে নানা পরিকল্পনা। নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। বিশেষ করে বিভাগের ব্যস্ততম ও জনবহুল বরিশাল নদীবন্দর কেন্দ্রিক সেবার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ হাতে নিয়েছে নানা উদ্যোগ। ধারাবাহিকতায় এরইমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

বরিশাল নদী বন্দর সূত্রে জানা গেছে, নানা উদ্যোগের মধ্যে যাত্রীদের সেবার কথা মাথায় রেখে এবারও সেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ২৫ জন মেরিন (ডিপিইটিসি) ক্যাডেট, ৩০ জন আনসার, ২০ জন স্কাউট সদস্য বরিশাল নদী বন্দরে দায়িত্ব পালন করবে। আর নিরাপত্তার কাজে নৌ-পুলিশ, মহানগর পুলিশ, কোস্টগার্ড ও র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্বে থাকবেন।

পাশাপাশি বন্দর ভবনের আশপাশের সড়কে যানবাহন চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দায়িত্বে বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এর বাইরে অসুস্থ রোগী এবং যেকোনো দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজের জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও মেডিক্যাল টিম বন্দর এলাকায় নিয়োজিত রাখা হবে।

অপরদিকে, বন্দর এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য সুপেয় বিশুদ্ধ পানি, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও বন্দর ভবনের সামনে বৃষ্টির পানিরোধক অস্থায়ী যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা এবং ব্রেস্ট ফিডিং রুমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এছাড়া নদী পথের নিরাপত্তার জন্য হিজলার মিয়ারচর চ্যানেলের নাব্যতা সঠিক রাখার পাশাপাশি বিকন বাতি, বয়াবাতি ও পর্যাপ্ত মার্কার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্পেশাল সার্ভিসের সময় পণ্যবাহীসহ অন্য সব নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে গত ঈদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও বন্দরে ঢুকতে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও সিনিয়র সিটিজেনদের টার্মিনাল টিকিট কাটতে হচ্ছে না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ঈদের সময়টাকে ঘিরে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও সিনিয়র সিটিজেনদের টার্মিনালে ঢুকতে সাধারণ যাত্রীদের মতো কোনো টিকিট কাটতে হবে না। পাশাপাশি বন্দর ও নদী পথের যাত্রা নিশ্চিত করতে বেশকিছু পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। যার কিছু বাস্তবায়ন হয়েছে। আর কিছু হচ্ছে।

তিনি বলেন, আশাকরি বিগত ঈদ যেভাবে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আমরা কাটিয়েছি, এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে নিরাপদে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। আমরা ইতোমধ্যে সব লঞ্চের সার্ভে সনদ, মাস্টারদের সনদসহ যাবতীয় সবকিছু ঘেটে দেখছি। কোনো ত্রুটি থাকলে নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজমল হুদা বলেন, কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী উঠতে দেওয়া হবে না। বিগত সময়ের মতো স্পেশাল সার্ভিস চলাকালীন বন্দর এলাকায় মাইকে সচেতনতামূলক প্রচারণা যাত্রীদের জন্য চালানো হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা ঘাটে সার্বিক তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে এতো আয়োজনের মধ্যেও বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় পন্টুন সংকট থাকায় একসঙ্গে স্পেশাল সার্ভিসের সবগুলো লঞ্চের বার্দিং জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে মাস্টাররা। এক্ষেত্রে একতলা ঘাটের জায়গা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু লঞ্চকে অন্য লঞ্চের পেছনে মাঝনদীতে নোঙর করে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী তুলতে হবে। যদিও পন্টুন বাড়নোর বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে তা আসন্ন ঈদের আগে সম্ভব হবে না।