আবারও তহসিলদার পল্টনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

আগস্ট ১৯ ২০১৯, ১০:৪৭

বরিশালে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে নগরীর সদর রোডে অবস্থিত জাগুয়া রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আর এ নিয়ে ঐ কর্মকর্তার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা।

গতকাল রবিবার সকালে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ অভিযোগ পত্র জমা দেয়। রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের ১৫জন ভুক্তভোগী স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাগুয়া রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার মশিউর রহমান পল্টনের কাছে দখিলা কাটতে গেলে তিনি প্রতি দাখিলার জন্য ১হাজার টাকা করে দাবী করেন, ভুক্তোভোগীরা ৮টি দাখিলার জন্য ৮হাজার টাকা দেয় পল্টনকে। জমা-খারিজ খারিজ করতে ৮/১০ হাজার টাকা লাগার কথা বলে পরে আবার কাগজে সমস্যার কথা বলে ২০হাজার টাকা দাবী করেন, পরবর্তীতে তারা দাবীকৃত ঐ টাকা দিয়ে জমা-খারিজ করিয়ে নিলেও ডিসিআর পায়নি।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, পল্টন বলেছেন, আমি সিনিয়র কর্মকর্তাদের মাসোয়ারা দিয়েই ম্যানেজ করি, ভূমি অসিসার্স কল্যাণ সমিতির সেক্রেটারীর হিসেবে কর্মকর্তাদের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ্যতা রয়েছে।

এব্যাপারে ভুক্তোভুগী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিভিন্ন সময় ভূমি অফিসে কাজ করাতে গিয়ে তহসিলদার পল্টনের কাছে প্রতারিত হয়েছি। টাকা ছাড়া তিনি কিছুই বোঝেনা, সব অনিয়মই যেন নিয়ম তার কাছে। পল্টন সব সময়ই বলেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ নাই, উপররের কর্মকর্তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ্যতা রয়েছে আমার। আমরা জানি ডিসি স্যার একজন ভালো মানুষ, তিনি সাধারন মানুষের পাশে দাঁড়ায়, আমরা ডিসি স্যারের কাছে এর একটা সুষ্ঠ বিচারের দাবী জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন পূর্বেও প্রতারণার মাধ্যমে একজনের জমি অন্যের হয়ে যাওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী মো: শাহ আলম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেএল ২৫নং হরিণাফুলিয়া মৌজার বিএস ৭৫১, ১২৬, ১৭৩, ২২৩, ৫২৩, ৬৭৩ নং খতিয়ানের বকেয়া খাজন পরিশোধ করতে গিয়ে মালিকপক্ষ জানতে পারেন হরিণাফুলিয়া এলাকা মৃত আমজেদ তালুকদারের পুত্র মোহাম্মদ তালুকদার ২৫ এপ্রিল ২০১৯ ইং তারিখে ১৪০৬নং খতিয়ানের ৩একর জমির অনুকুলে ৬২৯২৯২নং দাখিলায় গ্রহণ করেছেন।

১৪০৬ নং খতিয়ান কিভাবে সৃষ্টি হল এর কারণ সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা সহকারী তহসিলদার মশিউর রহমান পল্টন’র কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদেরকে অফিস হতে বের হয়ে যেতে বলেন। প্রয়োজনে ১৫০ ধারায় মামলা করতে বলেন তিনি।

আরো জানা যায়, বানোয়াট ১৪০৬ নং খতিয়ানের মালিক দাবিদার মোহাম্মদ তালুকদার মুল মালিকদেরকে উচ্ছেদের জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদান করছে। বিভিন্ন মাধ্যমে মোহাম্মদ তালুকদার বলে বেড়াচ্ছে এ রেকর্ডের বিনিময় তহসিলদার মশিউর রহমান পল্টনকে ৫লক্ষ টাকা প্রদান করেছেন। এবং ২লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১৫হাজার টাকার দাখিলা গ্রহণ করছেন।

এব্যপারে অভিযোগকারী মো: শাহ আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট তহসিলদারের কাছ থেকেই মোহাম্মদ তালুকদার দাখিলা গ্রহণ করেছে। তহসিলদার পল্টন অনিয়মের মাধ্যমে আমাদেরকে ভূমিহীনের চেষ্টা করার পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পকেট ভাড়ী করেছে। জেলা প্রশাসক বরাবর ভুয়া নামজারী বাতিলের পাশাপাশি তহসিলদার পল্টনের অনিয়মের বিচারের দাবীতে আবেদন করেছি।

এব্যপারে জেলা প্রশাসক এস,এম অজিয়র রহমান বলেন, অভিযোগ তদন্ত করার পরে সে যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।