বাউফলে মরণফাঁদে ৫টি সেতু, দুর্ভোগ চরমে

আগস্ট ২০ ২০১৯, ১৩:২৭

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হলেও সেতুগুলো মেরামতের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নাজিরপুর ইউনিয়নের শশীতলা খালের ওপর বশির মাস্টার বাড়ি সংলগ্ন সেতু, সুলতানাবাদ মাদ্রাসা সংলগ্ন সেতু, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের আলগী ব্রিজ, মদনপুরা ইউনিয়নের দ্বিপাশা-মাঝপাড়া খালের ওপর কালিবাড়ি সংলগ্ন আয়রন ব্রিজ ও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ি সংলগ্ন আরসিসি ব্রিজ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ব্রিজের পাটাতন ও স্লাব ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনেও সেতুগুলো মেরামত না করায় এলাকাবাসী কলাগাছ ও গাছের গুড়ি ফেলে ভাঙা অংশ জোড়াতালি দিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

প্রতিদিন পৃথক এই পাঁচটি সেতু পারাপার হতে গিয়ে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, মহিলা ও শিশুসহ বৃদ্ধরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এই ব্রিজ পাঁচটি মরণফাদে পরিণত হলেও সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণের ক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

সুলতানাবাদ গ্রামের শাহবুল দেওয়ান জানান, শশীতলা খালের ওপর ধানদি এলাকার বশির মাস্টার বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজের স্লাব ভেঙে যাওয়ায় ওই সড়কে টমটম, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা মাঝেমধ্যে কাঠের গুড়ি বিছিয়ে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলের ব্যবস্থা করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। স্লাব ভেঙে লোহার রড বেড়িয়ে গেছে সুলতানাবাদ দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন আরসিসি সেতুটিরও। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ২টি ব্রিজ দিয়ে স্কুলও কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নাজিরপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ।

পাঁচ বছরেও সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়েছে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের আলগী ব্রিজ। ভুক্তভোগী ধানদী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমীন, নার্গীস, সীফা, মুক্তা, ফারজানা ও সাদিয়া জানায়, প্রতিদিন এই ব্রিজ পাড় হতে গিয়ে উভয় পাশের একাধিক চরের শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ি সংলগ্ন সড়কের আরসিসি ব্রিজের অবস্থাও বেহাল। আবদুল মমিন হাওলাদার নামে স্থানীয় একজন জানান ৭-৮ বছর আগে নির্মিত ব্রিজটির কয়েকদিন যেতে না যেতেই স্লাব ধসে পড়েছে। পূর্ব বিলবিলাস ও পশ্চিম নুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

অপরদিকে কয়েকবছর আগে ভেঙে যাওয়া মদনপুরা ইউনিয়নের দ্বিপাশা-মাঝপাড়া খালের ওপর কালিবাড়ি সংলগ্ন সেতু দিয়ে এলাকাবাসী মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হলেও পুনর্নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে এলজিইডির বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম সাংবাদিকেদের বলেন, ‘আগামী অক্টোবর মাসে নতুন টেন্ডার দেয়া হবে। এর আগে ব্রিজগুলোর কন্ডিশন পর্যবেক্ষণ করে নির্মাণ কিংবা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’