ব্যবস্থা না নিলে কুয়াকাটাকে ঘিরে স্বপ্ন কাগজ-কলমেই থাকবে

সেপ্টেম্বর ৩০ ২০১৯, ০৯:৪১

বার্তা বরিশাল ডেস্ক ॥ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ঘিরে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সেখানে অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন হচ্ছে। জমির দাম আকাশছোঁয়া, ফলে সেখানে বিনিয়োগে মানুষের আগ্রহ কম। তাছাড়া জমি কেনাবেচায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিও রয়েছে। এসব ঠেকানো না গেলে কুয়াকাটা ঘিরে যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা, তা কাগজ-কলমেই থেকে যাবে।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা একথা বলেন।

তারা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন চর ও দ্বীপ কেন্দ্র করে মালদ্বীপের মতো পর্যটনের বিশাল জগৎ তৈরি করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন রাজধানীর সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ। পদ্মাসেতু চালু হলে সেই সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

তবে যেকোনো উন্নয়নে পরিবেশ-প্রকৃতির সুরক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগেরও দাবি জানান তারা। বলেন, পদ্মাসেতু ও পায়রাবন্দরের মতো বৃহৎ প্রকল্পের কারণে নদী-খাল ও সবুজ বনানী পরিবেষ্টিত বরিশাল অঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

জমি অধিগ্রহণের প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানানো হয় সেমিনারে।

‘পদ্মাসেতু ও পায়রাবন্দর: দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ সেমিনারে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহ আলম, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপর যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইসমাঈল, ডিক্যাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিবসহ বরিশাল বিভাগের বিশিষ্টজনরা। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সভাপতি আমীন আল রশীদ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষক তৌহিদুল আলম। জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক দেশেই সরকার জমি অধিগ্রহণ করলেও সেটি একবারে মালিকের কাছ থেকে কিনে না নিয়ে বরং বার্ষিক ভাড়াভিত্তিতে নিয়ে থাকে। অর্থাৎ, জমির মালিকানা ঠিকই থাকবে এবং প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট হারে জমির মালিক জমির ভাড়া পাবেন। কিন্তু ওই জমি ব্যবহার করবে সরকার। এতে একদিকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প যেমন বাস্তবায়িতে হবে, তেমনি কেউ চিরদিনের মতো জমির মালিকানা হারাবেন না।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সড়কনির্ভর উন্নয়নের প্রথম বলি হয় খাল, নদী ও জলাশয়। সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক ছোট ছোট নদী ও খালের মৃত্যু হয়েছে একথা সবার জানা। আবার সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে ছোট নদীর ভিতরেও অনেক পিলার দেওয়ায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়, যা ধীরে ধীরে নদীকে মেরে ফেলে। পক্ষান্তরে এটিও ঠিক যে, সহজ ও দ্রুত যোগাযোগের জন্য সড়ক ও রেলপথই বেশি জনপ্রিয়। সুতরাং সড়ক, রেলপথ, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করতে গিয়ে যাতে নদী-খাল-জলাশয়ের মৃত্যু না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।