বরিশালে শিরিনকে হত্যা না আত্নহত্যা? রহস্য খুঁজছে পুলিশ

অক্টোবর ২৯ ২০১৯, ১৫:০৮

বার্তা বরিশাল ডেস্ক ॥ বরিশাল নগরীর নৌ-বন্দর সংলগ্ন শিরিন ফার্মেসির স্বত্ত্বাধিকারী শিরিন খানম নামের এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার রাত ১০টার দিকে ফার্মেসিতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বরিশাল নগরীর আলোচিত টিকটক শিরিন নামে পরিচিত এই নারীর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে তার শরীরে বিষাক্ত কোন ইনজেকশ পুশ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারনা চিকিৎসক এবং পুলিশের। তার শরীরে তেমন আলামতও খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। তবে ওই নারী নিজেই নিজের শরীরে ইনজেকশ পুশ করেছে নাকি তাঁর শরীরে অন্য কেউ কৌশলে ইনজেকশনটি পুশ করেছে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি মৃত্যুর পুর্বে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা তার একটি ভিডিও রেকর্ডও পরিকল্পিত হত্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মৃত্যুর পূর্বে ভিডিওতে শিরিন খানম তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পার্শ্ববর্তী ওষুধের দোকানী জনিসহ বেশ কয়েখজনের নাম উল্লেখ করে। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি যে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন তাও প্রকাশ করেন। এসময় তিনি জনগণ এর বিচার করবে বলেও উল্লেখ করেন।

ভিডিওতে শিরিন খানম আরও বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠান উৎখাত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা আল্টিমেটাম দিয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর তার আমার কাছ থেকে দোকানটি ছিনিয়ে নিতে সকল বন্দোবস্তের ছকও কল্পিত।

অপর একটি ভিডিতে দেখা যায়, শিরিন তার নিজের দোকানে কয়েকজন ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন। কোন একটি কাগজ নিয়ে সেখানে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। ভিডিওটিতে ফার্মেসীতে বসা এক ব্যক্তিকে বার বার দেখানো হয়। এসময় শিরিনের কান্না করার শব্দও শোনা যায়। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে পুলিশ বেশ কয়েকটি বিষয়কে সামনে এনে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে শিরিনের মৃত্যুর পর কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে বেশ কিছু আলামত জব্দ করেন তারা। যেসব আলামত জব্দ করা হয়েছে তাতে শিরিন খানমকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ইঙ্গিত করছে। তাছাড়া ঘটনার পর পরই শিরিনের ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করার বিষয়টি সন্দেহ আরও ঘনিভূত করে তুলেছে পুলিশকে।

পুলিশের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘সম্প্রতি শিরিন খানম ‘আজকের ক্রাইম নিউজ’ নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল চালু করেন। পত্রিকাটিতে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে তার নাম দেখা গেছে। তবে রোববার রাত থেকে তার নামটি ওই পোর্টালে আর দেখা যায়নি। তবে মৃত্যুর পূর্বে নাকি পরে নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘সাম্প্রতিককালে নকল ওষুধ বিক্রির অপরাধে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিলো শিরিন খানম। এসময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে কারাদন্ডও দেয়। এ কারনে বেশ কিছুদিন কারাগারে থাকতে হয় তাকে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিরিনের বিরুদ্ধাচারণ করে বেশ কিছু পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাই জেল থেকে বের হয়ে ক্ষভের বসবতি হয়ে ‘আজকের ক্রাইম নিউজ’ নামক প্রত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শিরিন।

সূত্র জানায়, ‘পত্রিকাটির পাঠক বৃদ্ধিকরার লক্ষ্যে শিরিন তার নিজের ফেসবুক আইডিটি একই অনলাইন পোর্টালের অংশিদার মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন তালুকদার লিটনও পরিচালনা করতো। এমনকি আইডি পাসওয়ার্ড সবই ছিলো বেল্লালের কাছে।

তাছাড়া সম্প্রতি পত্রিকাটির মালিকানা নিয়ে শিরিনের সাথে বেল্লাল হোসেন লিটনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ কারণেই শিরিনের নামটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে ফেলে দেন লিটন। এ নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে লিটন শিরিনকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।

যদিও কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিরিনের মৃত্যুকে ঘিরে অনেক আলামতই পাওয়া গেছে। এর কোনটিই ছোট করে দেখা হচ্ছে না। তাছাড়া শিরিনের ভিডিওতে একটি বিষয় স্পষ্ট যে তার প্রতিষ্ঠান নিয়ে কোন একটা ঝামেলা চলছিলো। পাশাপাশি সে অনেকটা আবেগতারিতও ছিলো। যে কারনে এটি আত্মহত্যা হলেও হতে পারে। তবে ময়না তদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারন বলা যাচ্ছে না। অবশ্য মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কিছুটা ভিন্ন কৌশলও নেয়া হয়েছে। আশা করছি খুব শিঘ্রই একটি রেজাল্ট পাওয়া যাবে।’

এদিকে এদিকে গতকাল সোমবার (২৮ অক্টােবর) শিরিন খানমের ভাই ইউসুফ মৃধা বাদী হয়ে ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এটিএম শহিদুল্লাহ কবিরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আসামীরা হলেন মশিউর রহমান মারুফ, শেলি, জনি, কায়েস, রনি, আলো, এটিএম শহিদুল্লাহ কবির।

সূত্র: বাংলাদেশ টুডে।