ঝুঁকিতে বরিশালের অভ্যন্তরীণ নদীপথ

জুলাই ০৫ ২০২০, ১৯:২৩

মজিবর রহমান নাহিদ॥ দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগের সবচেয়ে আরামদায়ক ও সহজলভ্য মাধ্যম নৌপথ। দেশের দ্বিতীয় বৃহত বরিশাল নদী বন্দর। বর্তমানে বরিশাল নদী বন্দর থেকে ভোলা, মেহেন্দিগঞ্জ, ভান্ডারিয়া, হিজলা, বরগুনা সহ অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করছে প্রায় ২০ টি লঞ্চ। কিন্তু পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম নেই বেশিরভাগ লঞ্চে। মালেক মুন্সি নামে ভান্ডারিয়াগামী এক যাত্রী বলেন, বেশিরভাগ লঞ্চেই জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম বয়া নেই। যেমন আমরা লঞ্চে যাত্রী আছি ১শ’ কিন্তু বয়া আছে ৫০টি, এতে তো হয় ১শ’ যাত্রী থাকলে ১শ’ টি বয়ায়ই থাকা প্রয়োজন।

সফিকুল ইসলাম নামে অপসারপ্রাপ্ত এক সেনাবাহিনী কর্মকর্তা বলেন, এসব লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম চোখে পরেনা তারপরও আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে যাতায়াত করি।

শুধু জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামই নয় অদক্ষ চালক দিয়ে লঞ্চ চালানোর পাশাপাশি অনেক লঞ্চের ফিটনেস ঠিক নেই বলেও অভিযোগ যাত্রীদের। যাত্রীরা বলছেন বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

শেখ আরিফ নামে মেহেন্দিগঞ্জ রুটের এক যাত্রী বলেন, বরিশালের অভ্যন্তরীন রুটের বেশিরভাগ লঞ্চই অনেক পুরোন। কয়েকটা লঞ্চের ফিটনেশও ঠিক নেই, এর থেকেও বড় কথা বেশিরভাগ অদক্ষ স্টাফ দিয়ে লঞ্চ পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারের কাছে দ্রুত দাবী জানাই এসবের বিরুদ্ধে যথাযথ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমাদের বড় কোন দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে কথা হয় কয়েকটি লঞ্চের মাষ্টার ও সুকানির সাথে।

অদক্ষ চালকদের দিয়ে লঞ্চ পরিচালনা করার অভিযোগ করছেন তারাও। জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম পর্যাপ্ত আছে দাবী করে মোঃ মিলন নামে এক মাষ্টার জানায়, ‘আমাদের লঞ্চে পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম আছে এবং আমরা সবাই দক্ষতার সাথে লঞ্চ পরিচালনা করে আসছি।’ তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ লঞ্চেই মাষ্টার-ড্রাইভার রাখেনা, দক্ষ মাষ্টার-ড্রাইভার না থাকলে যে কোন সময় একটা দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। মালিকদের উচিত মাষ্টার-ড্রাইভার রাখা এবং বিআইউব্লিউটির উচিত কোন লঞ্চে দক্ষ লোক নাই এটি তদারকি করা। মাষ্টার-ড্রাইভার যদি পরিচালনা ঠিকভাবে করে তাহলে ৯০% দূর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সারেং জানায়, ‘বর্ষার সিজনে লঞ্চ পরিচালনার জন্য অভিঞ্জ মাষ্টার দরকার, শুধু বর্ষার জন্য না সর্বক্ষনেই এটি প্রয়োজন। একটা জাহাজ যান-মাল এটাতো একটা মাষ্টারের উপরেই নির্ভর করে তারপরও দূর্ঘটনা কম বেশি হইয়া আসছে হইতেই পারে, কিন্তু অভিজ্ঞ লোক দিয়ে যদি লঞ্চ পরিচালনা করা হয় তাইলে হয়তোবা বিপদ থেকে মুক্তি পাবো।’

এদিকে ফিটনেসবিহীন কোন লঞ্চ নেই দাবী করে বরিশাল বিআইউব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) আহমল হুদা মিঠু বলেন, ‘দূর্যোগকালীন সময় বা অশান্তকালীন সময়ে লঞ্চগুলো যাতে নিরাপদে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় চলাচল করতে পারে সেই লক্ষে আমরা প্রতিটি লঞ্চের মাষ্টার-ড্রাইভারদেরকে আমরা সতর্ক করে দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি লঞ্চের ফিটনেস সনদসহ মাষ্টারদের সনদগুলো আমরা যাচাই-বাচাই করছি, কোন লঞ্চের যদি ত্রুটি থাকে সেই লঞ্চগুলো যাত্রা থেকে আমরা বিরত রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।’ আজমল হুদা মিঠু বলেন, ‘এই নির্দেশের যারা ব্যাতয় ঘটাবে তাদের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্টে মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নৌপথে প্রতি বছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত অশান্ত মৌসুম ঘোষণা করা হয়। এই অশান্ত মৌসুমের মধ্যেও মালিকদের খামখেয়ালীপনায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে অভ্যন্তরীণ রুটের এসব লঞ্চগুলো। তাই বড় ধরনের কোন দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেতে সরকারের দ্রুত কোন পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানিয়েছেন যাত্রীরা।