বরিশালে পিতা-পুত্রকে হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তি দিলেন তিন ঘাতক

জুলাই ০৭ ২০২০, ১২:০২

বার্তা প্রতিবেদক॥ বরিশাল জেলার বাখেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীপাশার পান্ডব নদী ও পাশ্ববর্তী নদীর তীর সংলগ্ম ঝোপের ভিতর থেকে ১৬ ঘন্টার ব্যবধানে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কলার দেওয়ানিয় গ্রামের বাসিন্দা ও ক্ষুদ্ধ চাই ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন হাওলাদার(৫৫) ও পুত্র ইয়াসিন হাওলাদার (২০) এর লাশ উদ্ধারের পাশাপাশী পিতা-পুত্রের হত্যাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা সহ লুন্ঠন করে নেওয়া ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও মোবাইল,রক্তমাখা কাপড়-চোপড় সহ তিন হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

আটককৃতরা হচ্ছে মোঃ বাদশা হাওলাদার (৩৮) পিং মৃত জয়নাল হাওলাদার, সাং দুবার চর (২) মোঃ শাহীন খাঁ (২৫), পিতা মোঃ সবুজ খাঁ ও মোঃ ছানির হাওলাদার (১৭),পিতা আমির হোসেন হাওলাদার, উভয়ের ঠিকানা বরিশাল জেলার বাখেরগঞ্জের গোমা। এদের মধ্যে এক নং হত্যাকারী বাদশার বিরুদ্ধে বাখেরগঞ্জ থানায় দস্যুতা,চুরি সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ই) জুলাই সকাল ১১ টায় বরিশাল পুলিশ লাইনস্থ ইন সার্ভিস টেনিং সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পিত ও পুত্রের হত্যাকারী ঘাতকদের পরিচয় সহ তাদের কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম (পিপিএম বিপিএম)।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নইমুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরদার ফরহাদ হেসেন ও বাখেরগঞ্জ এসপি সার্কেল আরোয়ার সাঈদ প্রমুখ।

এসময় পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম লিখিত ভাবে বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় অজ্ঞাতনামা গলা কাটা লাশ পড়ে আছে এসংবাদ পেয়ে বাখেরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝোপের ভিতর থেকে লাশ উদ্ধার করে। এবংপরের দিন সকাল ৮টায় নদীতে ভাসমান লাশ দেখা যাচ্ছে পরে পুলিশ গিয়ে সেই বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং এক প্রর্যায়ে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়।

আসামীরা স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, হত্যাকান্ডের ৪/৫দিন আগে থেকেই তাদের উপর নজর রাখে ঘটনার দিন ৬০পিছ চাই কেনার কথা বলে এবং চাইগুলো তাদের এলাকায় পৌছে দেবার অনুরোধ করে।

পূর্ব থেকেই পরিকল্পনামাফিক বাদশা শাহীন ও সানি ট্রলারে উঠে এবং চর লক্ষ্মীপাশা নামকস্থানে থামিয়ে চাইগুলো নামাতে বলে। অপরদিকে ইয়াসিনকে টাকা দেবার কথা বলে সানি ও শাহীন একটু দুরে বাগানে নিয়ে যাবার সময় পিছন থেকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফেলে অন্য দু’জন হাত পা চেপে ধরে হত্যা নিশ্চিত করে।

এর হত্যাকারীরা নদীর তীরে এসে বৃদ্ধ হেলাল উদ্দিন কে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে ছুরি পেটের দু’পাশে ছুরি বসিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে আসামীরা ভিকটিমের সাথে থাকা ৩৫০০ টাকা, ১টি মোবাইল, ট্রলার ও পড়নের কাপড়-চোপড় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায়।

অপরদিকে লাশ উদ্ধারের পরপরই আমরা তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ৬ই জুলাই ঢাকার সদরঘাট এলাকার তেলঘাট নামকস্থান থেকে ঘাতক তিনজনকে গ্রেফতার করা সহ ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়।