বরিশালের গণপরিবহনগুলোতে একের পর এক আতঙ্ক!

নভেম্বর ২৩ ২০২০, ০৫:২৭

এইচ আর হীরা॥ বরিশালে গণপরিবহনে ক্রমশ বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা, ঘটছে একের পর এক নৃশংস হত্যাকা-ের মতো ঘটনা।এছাড়াও প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে চুরি-ছিনতাই-প্রতারণাসহ নানান রকম অপরাধ। কয়েকটি ঘটনায় পুলিশ অপরাধীদের ধরতে পারলেও অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আস্থাহীনতায় অনেকেই অভিযোগ জানাতে থানায়ও যাচ্ছেন না। অপরাধ প্রবণতা রোধে প্রশাসনের নেই কোন আপাতদৃষ্ট পদক্ষেপ। এর ফলে জণজীবনে বাড়ছে অস্থিরতা ও আতংক।

 

বর্তমানে মেট্রপলিটনের বিভিন্ন থানাধীন এলাকার অপরাধ প্রবণতা রোধে প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি বরিশাল শহরে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের।

 

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে আরও কঠোর নজরদারি বাড়িয়ে অপরাধ দমনে সফল হবে এমন দাবি নগরবাসীর। সূত্র বলছে,গত ৫ বছরে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে অন্তত ৫ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ১৭ নভেম্বর (মঙ্গলবার) এমভি সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ছাদ থেকে শামীম হাওলাদার (২৪) নামক এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।অন্যদিকে বরিশালে সড়কপথে ২০১৬ সালে “সেবা পরিবহন” (বরিশাল-জ-১১-০০১০৫) দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ৪বছর পরে সর্বশেষ গত (২১ নভেম্বর) শুক্রবার আর.সি পরিবহনে ড্রামের মধ্য থেকে সাবিনা (৩০) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

এদিকে বরিশাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালে বরিশাল মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের ১৪ টি থানায় ৩৩টি খুনের ঘটনা ঘটে এবং ২০১৯ সালে বরিশাল জেলাজুড়ে ২৯টি খুনসহ মোট সংঘঠিত অপরাধের সংখ্যা ছিলো ১২৭৭টি।সম্প্রতি বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরবাসীর নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিসিসি’র উদ্যোগে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনা ঘিরে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ শতাধিক ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সঠিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো আজ বিকল। তাই ৫৮ বর্গকিলোমিটার এরিয়ায় প্রায় ৬ লাখ নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখন একমাত্র ভরসা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২৯টি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা।

 

দীর্ঘদিন যাবত ক্যামেরাগুলো বিকল থাকার কারণে নগরীতে দিনে-দুপুরে অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এমনকি অপরাধী চক্রও ক্রাইম সংঘটিত করে অনেকটা নিরাপদে পালিয়ে যাচ্ছে।ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধ দমন ও অপরাধীদের লাগাম টানতে পারছেন না।পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন অপরাধ প্রবণতার তদন্তে নেমেও অপরাধীদের শনাক্ত করতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছেন।

 

এমতাবস্থায় অপরাধ দমন, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সন্ত্রাসী শনাক্তকরণে সিটি ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে সচেতন মহল।স্থাপিত সিসি ক্যামেরা গুলো অকেজো বলে স্বীকার করে আগামী ১ মাসের মধ্যে (সিসি) ক্যামেরাগুলো সচল করার কথা জানায় বিসিসি’র সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত কর্মকর্তা।সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশালের সভাপতি প্রফেসর শাহ্ সাজেদা বলেন, যুগের চাহিদা সিসি ক্যামেরা।

 

বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলো তদন্তের স্বার্থে সিসি ক্যামেরার গুরুত্ব অপরসীম বলে মনে করেন তিনি।এ ব্যাপারে বরিশাল বিআইডব্লিটিএ’র বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লঞ্চ যাত্রীদের নিরাপত্তায় তারা মালিকেদের সঙ্গে বসে আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, বেতন দিতে হবে এ কারণে লঞ্চ মালিকরা আনসার রাখছেন না, তবে যাত্রী নিরাপত্তার কথা সর্বাগ্রে বিবেচনা করতে হবে।

 

যাত্রীবাহী লঞ্চ মালিক সমিতি সভাপতি শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, যে যখন বলে তখনই কেবিন বুক করা হয়। কিন্ত জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েই কেবিন বুক করলে কিছুটা অঘটন কমবে। বরিশাল বাস মালিক সমিতির একাধিক নেতারা দাবী করেন, বরিশালের সাথে অভ্যন্তরীন এবং দূরপাল্লার রুটে তেমন কোন অঘটন ঘটে না এখন আর, প্রশাসনের সঠিক নজরদারী থাকলে বাকিটা কমে যাবে। বরিশালের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে আছে বরিশালের পুলিশ। তারপরও যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে, সেসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করে চলেছে পুলিশ।

 

বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, দেশে আজ অপরাধীদের বিচার হচ্ছে।বিচারের রায় সঠিকভাবে মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে অপরাধীরা অপরাধ থেকে কিছুটা হলেও সরে আসবে। তিনি বলেন,বরিশালে আমরা কোনো ন্যাক্কারজনক ঘটনা দেখতে চাই না। অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার বলেন, আমরা সব সময়ই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তৎপর। নজদারী বাড়ানো এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে অতিদ্রুত এ অপরাধগুলো কমিয়ে আনা হবে।

 

বিএমপির শীর্ষ এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বরিশাল মেট্রপলিটন এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে বিট পুলিশিং কার্যালয় চালু, নিয়মিত ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে জনগণের সাথে সচেতনামূলক সভা করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।