বোরহানউদ্দিন পৌরসভা নির্বাচনে কর্মীবান্ধব নেতাদের প্রার্থী চায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

নভেম্বর ২৩ ২০২০, ০৮:৪২

উপেজলা বার্তা প্রতিবেদক ॥ তফসিল ঘোষণা না হলেও ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনায়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ক্ষমতাশীনদল আওয়ামী লীগ,বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা। সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানামুখী প্রচারনায় ক্রমশ উৎসব মুখর হয়ে উঠছে পৌর এলাকা।

প্রতিদিনই পৌর বাজারের অলিগলি ও চায়ের দোকানে নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে আলাপচারিতায় সাধারণ ভোটাররা তাদের মতো করে হিসেব-নিকেশ কষছেন। ভোটের পালে আগাম হাওয়ার দুলছে প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটাররা। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় ১০ হাজার ৭২০ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৩৬০ জন ও মহিলা ৪ হাজার ৫০ জন।

 

শুভেচ্ছা সম্বলিত প্রার্থীদের ছবিসহ রঙিন পোষ্টার, পিভিসি, প্লাকার্ড, ব্যানার, ফেষ্টুনে ছেয়ে গেছে পৌরসভার অলিগলি। সোস্যাল মিডিয়ায় প্রার্থীর পক্ষে বাহারি প্রচারনাও চোখে পড়ার মত। দলীয় সমর্থন পেতে বর্তমান ও সম্ভাব্য নয়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের নীতি-নির্ধারকদের কাছে দৌড়-ঝাপ চলছে সমান তালে। এছাড়া তাদের সমর্থনে ওয়ার্ডের সমর্থকরাও পিভিসি পোষ্টার দিয়ে দলীয় দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

 

স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকায় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র মো. রফিকুল ইসলামের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। রফিকুল ইসলাম ২০১১সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় ২০১৫ সালে তিনি দলীয় মনোনায়নে মেয়র নির্বাচিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলামকে দলের একটি অংশ পূনরায় মেয়র হিসেবে চাইলেও দলের তৃণমূলের বৃহত একটি অংশ চাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মহব্বত জান চৌধুরীকে। তিনিও এবার দলীয় মনোনায়ন চাইবে বলে জানা যায় বিশ্বস্ত সূত্র থেকে।

বিএনপির দখলে থাকা বোরহানউদ্দিন পৌরসভা পুন:রুথ্থান করতে এবার একক মেয়র প্রার্থীসহ সকল ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী দিতে ইতিমধ্যে দফায় বৈঠক করছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানায় যায়, বিগত ২০১৫সালে বিএনপির মনোনায়নে মেয়র পদে নির্বাচন করেন পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান কবির। তিনিও এবার দলীয় মনোনায় চাইছেন। এছাড়ায় বোরহানউদ্দিন পৌর বিএনপি’র সভাপতি সাবেক মেয়র সাইদুর রহমান মিলন, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খাঁনের নামও আলোচনায় রয়েছে। এদের মধ্যে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের পছন্দের নাম সাইদুর রহমান মিলন। পৌর বিএনপির সভাপতি হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি ২০০২ সালে ৩মার্চ বোরহানউদ্দিন পৌরসভার উপ-নির্বাচনে সাইদুর রহমান মিলন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পৌর নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন।

 

বিএনপির একাধিক নেতারা জানান, দলীয় হাই-কমান্ড থেকে নির্দেশনার পর তারা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রে পাঠাবেন। এদিকে জামায়াতের নিবন্ধন না থাকায় তারা স্বতন্ত্র প্রতীকে আবদুস সালাম মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে নেতারা জানান।

 

জামায়াতের আমির মাও. শফিউল্যাহ জানান, মেয়র প্রার্থী হিসেবে আবদুস সালাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ধন্ধিতা করবেন। এছাড়া পৌরসভার এক, দুই, চার, পাঁচ ও নয় নাম্বারে কাউন্সিলর প্রার্থীও তারা চুড়ান্ত করেছেন।